ভাইরাস আমাদের বেহিসেবীর অপবাদ ঘুচিয়েছে (Covid 19 has saved us from the accusation of thoughtless consumption)

  • by

করোনা ভাইরাস, ২১ দিনের লক ডাউন, সাথে একাধারে বেড়ে চলা মৃত্যুর সংখ্যা – সব মিলিয়ে আমরা একেবারে যে ধীরে ধীরে মানসিক ভাবে অবসাদগ্রস্থ হওয়ার সম্মুখীন, তা মোটামুটি সকলেই বুঝতে পারছি. কিন্তু সবচেয়ে বোরো সমস্যা কোনটি জানেন? সব বুঝেও আমাদের কিছু করার নেই. বাইরে বেরোনোর কোনো অনুমতিও এই মুহূর্তে আমরা পাচ্ছি না. কারণ সোশ্যাল ডিস্টেনসিং না মানলেই যে আমরা নিজেদের সাথে নিজেদের পারিপার্শিক মানুষগুলোর বিপদও ডেকে আনব. এই পরিস্থিতি একেবারে শাঁখের করাত.

কঠিন বাস্তব –

হ্যাঁ, একেবারেই সকলে এক সূত্রে আমরা মানব যে এই মুহূর্তে আমার চূড়ান্ত সমস্যার মধ্যে দিয়েই সময় কাটাচ্ছি. বিনোদন তো ছেড়েই দিলাম, নিজের প্রয়োজনের জিনিস আনতেও আমাদের কপালে ভাঁজ পড়ছে. কিন্তু কথায় আছে না- কঠিন সময় আমাদের জীবনের চলার পথের একমাত্র ভালো শিক্ষক. কারণ জীবনে কঠিন সময় না আসলে, আমরা বুঝতেই পারিনা, আমাদের ধৈর্য্য শক্তি ঠিক কতটা, ঠিক কতটা আমরা পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে পারি?

প্রয়োজন কোনটা, সেটি বুঝতে হবে –

২২ শে শ্রাবনের ওই বিখ্যাত ডায়ালগটি মনে আছে? – ‘ভাত-ডাল আর বিরিয়ানির মধ্যে পার্থক্যটা’- কি কিছু বুঝতে পারছেন, ঠিক কি বলতে চাইছি? সব কিছুর সাথেই এই ভয়ঙ্কর সময়টি আমাদের শিখিয়েছে, কোনটা নেসেসারী আর কোনটা লাক্সারী. আমি নিশ্চিত আমার এই কথাটির সাথে আপনারা অনেকেই নিজেদের দৈনন্দিন অবস্থাটি রিলেট করতে পারছেন অনায়াসে.

আরও পড়ুন –

ভাবুন না এই তিন মাস আগেও, সারা সপ্তাহ পাগলের মতো অফিসে খাটা খাটুনির পর, শনি রবি কবে যে বাড়ি বসে থেকেছেন- মনে পড়ে? আবার কাজের পর বাড়ি ফেরার পথে, বন্ধুদের সাথে আড্ডা, কোনো ভালো রেস্তোরায় প্রায় দিনই একটু ভিন্ন স্বাদে নিজের রসনাকে তৃপ্ত করা, আবার রবিবার করে বাড়ির সকলের সাথে বসে ভালো মন্দ রান্না খাওয়া, এতে নিঃসন্দেহে মজা তো আছে ঠিকই. কিন্তু এইগুলি ছাড়া আপনার জীবন যে চলতে পারে, সেইরকমটি কখনো ভেবেছেন? আবার নিজের এতো ইচ্ছা পূরণের স্বার্থে, আপনার যে কাড়ি খানিক টাকা জলের মতো খরচ হয়েছে, বলুন তো এই কয়দিন বাড়িতে বন্ধ থাকার সুবাদে কত টাকা আপনার বাঁচলো!

অন্যদিকে বাড়ির মানুষগুলির বরাবরের অভিযোগ- যে আপনি তাদের সাথে একটুও সময় কাটান না, সেটাও কিন্তু এখন একেবারে ঘুচে গেছে. সারাক্ষন আপনি এখন তাদের সাথে বাড়িতে. কিন্তু পার্থক্যটা হলো- আপনাকে বাড়ি থেকেও কাজ করতে হচ্ছে. আবার এই ব্যস্ত জীবনের দৌড়ে সামিল হতে গিয়ে, আপনার ফেলে আসা, শৌখিন ইচ্ছাগুলি যেমন ছবি আঁকা, কবিতা পাঠ করা, কবিতা লেখা, মানে নিজের এককালের আপন মনে লেখার অভ্যেসের ওপর জমা ধুলো আবার সরিয়ে নিতে পারছেন. বুক সেলফের কোনায় পড়ে থাকা ডায়েরিটা আবার যেন প্রাণ খুঁজে পাচ্ছে.

নতুন চ্যালেঞ্জ –

টলিউডের একজন অভিনেতার মুখেও একটা কথা শোনা গেল এই মুহূর্তে, যেটি কিন্তু আমাদের সকলের মনেই কোনও না কোন সময় নিশ্চয়ই এসেছে. সামান্য কিছু বাজার করতে আমরা শপিং মলে গেলেই, লিস্ট অনুসারে জিনিসপত্র কেনার পরও শুধুমাত্র চোখের ভালো লাগা বা চোখের খিদে মেটাতে আমরা অনেক বেশি জিনিস কিনে ফেলি. আর বাড়িতে এসে সেগুলি, রান্নাঘরের কোনও কোন বা মাসকাবারির জিনিস মজুত রাখার বাক্সে বা ফ্রিজের তাকে তাকে জমতে থাকে. যেটা শপিং মলের তাকে দেখা মাত্রই মনে হয়েছিল, বাড়িতে গিয়েই এটা কাল রাতের মধ্যেই শেষ করে ফেলবো, সেটি কিন্তু দুই মাস ধরে ভালোই জমে থাকে ফ্রিজে বা রান্নাঘরে.

আরও পড়ুন –

কিন্তু এতক্ষন আমাদের খুব প্রয়োজন হলে, বেরোতে হয় জিনিস কিনতে আর সেখানে কিন্তু প্রায়োরিটি লিস্টে শুধুমাত্র যে জিনিসগুলি আমাদের না হলে চলবে না, সেগুলিই প্রাধান্য পেয়েছে. তো বেহিসেবী থেকে হিসেবী হতেও শিখাচ্ছে কিন্তু এই আপাতকালীন পরিস্থিতি.

তো সব কঠিন পরিস্থিতি খারাপ হলেও, সব কিছুরই একটি ভালো দিক তো থেকেই যায়. আপনার এই পরিস্থিতিতে কি কি পরিবর্তন এসেছে জীবনে- আমাদের কমেন্টে জানান.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।