হেভি ব্লিডিংয়ের সমস্যা মোকাবিলা করবেন কিভাবে জানেন কি ? (Causes of heavy menstrual bleeding)

অনেক মহিলারই পিরিয়ডসের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত হতে দেখা যায়। বিশেষ করে পিরিয়ডস সাইকেলের প্রথম দুইটি দিন। এটি খুব স্বাভাবিক হলেও, অনেকেরই আবার পরের দিনগুলিতেও রক্তপাতের পরিমান কমতেই চায় না। সেই ক্ষেত্রে কিন্তু বলতেই হচ্ছে, তা কোনো জটিল সমস্যার ইঙ্গিত।

কিভাবে বুঝবেন আপনার এই সমস্যা আছে?-

প্রত্যেক মহিলার ঋতুকালীন রক্তপাতের পরিমান আলাদা রকমের হয়। তবে গড় হিসেব করলে বলা যায় – একটি ঋতুচক্র মোটামুটি ভাবে ৫দিন স্থায়ী হওয়ার কথা। মোট রক্তপাতের পরিমান ২-৩ টেবিল চামচের বেশি হওয়ার কথা নয় , যদি দেখেন আপনার প্রায় প্রতিবারই ৭ দিন ধরে চলছে ঋতুস্রাব , বা একবার ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই আবার শুরু হয়ে যাচ্ছে , প্রতি ঘন্টায় প্যাড বদলাতে হচ্ছে , রক্তের ডেলা বেরোচ্ছে প্রায়ই , রাতে ঘুমের মধ্যে হটাৎ দেখছেন প্যাড ভিজে গিয়ে আবার জামাকাপড় বিছানায় দাগ লেগে যাচ্ছে এতটাই ব্লিডিং হচ্ছে। তাহলে বুঝে নিন আপনার অতিরিক্ত রক্তপাতের সমস্যা আছে। নিশ্চয়ই আপনার কোনো শারীরিক সমস্যাই এর জন্য দায়ী। তাই ক্রমাগত এই সমস্যা হলে অবশ্যই ডাক্তার এর পরামর্শ নিতে হবে।

কোন কোন কারণে এটা হতে পারে ?

নিশ্চই জানেন যে ইন্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের ভারসাম্যই ইউটেরাস এর ভেতরের লাইনিং বা এন্ডোমেট্রিয়াম গঠন করে। ঋতুচক্রের সময় এই এন্ডোমেট্রিয়াম নির্গত হয় শরীর থেকে , আবার কিছুদিনের মধ্যেই তৈরী হয়ে যায়। হরমোনের কোনো প্রবলেম হলে এন্ডোমেট্রিয়াম ও মোটা হয়ে যায় তাই রক্তপাতও বেশি হয়। আবার অনেকসময় শারীরিক কিছু গঠনের জন্যও অতিরিক্ত ব্লিডিং হতে পারে। প্রেগন্যান্সির মধ্যে রক্তপাত হলে বুজতে হবে যে কোথাও কোনো সমস্যা তৈরী হয়েছে।

সাবধানতা –

অতিরিক্ত রক্তপাত থেকে এনিমিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই আইরন সমৃদ্ধ খাবার খান, খুব বেশি রক্তক্ষয় হলে ক্লান্তিবোধ হবে কাজ করতেও পারবেনা তাই ডাক্তার এর পরামর্শ নিন। জোর করে কিছু কাজ করবেননা এই সময়, ব্যাম করাও বন্ধ করুন এই কদিন , খুব বেশি ব্লিডিং হলে কোষ গুলো প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পাবেনা তখন শাসকষ্টের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই একেবারেই ফেলে না রেখে সাবধানতা অবলম্বন করা খুব জরুরি ।

এই ধরণের সমস্যা পরপর তিনটি মাস একইভাবে হলেই, আর দেরি করবেন না। যতটা তাড়াতাড়ি সম্ভব কোনো ভালো স্ত্রী বিশেষজ্ঞকে দেখান, তার মতামত নিন। কারণ মহিলারা কিন্তু নিজেদের এই সমস্যাগুলিকে বেশি পাত্তা দেন না, যার ফলেই অনেক বড় রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।