ডায়াবেটিস রোগীরা মাটির নিচের ফসল কি খেতেই পারবেন না? জেনে নিন কি বলছেন একজন ডায়টেশিয়ান- (Can diabetic patients eat root vegetables?)

পৃথিবীতে যে কোন জিনিসেরই পর্যাপ্ত দেখভাল মিললে, তার অস্তিত্ব বহু সময় পর্যন্ত বজায় থাকে। তা সে কোন দ্রব্য হোক, যেমন নিজের শখের গাড়ি। ধরে নিন কেউ তার জমানো টাকা দিয়ে, পছন্দের গাড়িটি কিনতে পেরেছেন, বহু বছর পর। এখন সে আর অফিস, বাসের মধ্যে ঘেমো শরীরের ধাক্কা খেতে খেতে আর যান না। বরং আর সকল কলিগদের মতন অফিসের সামনের পার্কিং জোনে নতুন গাড়িটি পার্ক করিয়ে তারপর রেলার সাথে অফিসে প্রবেশ করেন। আর যখন কেউ তার গাড়িটি নিয়ে প্রশ্ন করেন, তখন তার মুখে আপনা থেকেই ফুটে ওঠা হাসিটা, সত্যি যেন একটি স্যাটিসফেকশন প্রতীকের সাক্ষী বহন করে। কিন্তু ভেবে দেখেছেন, এই গাড়িটিরই যদি ঠিকঠাক খেয়াল না রাখেন তিনি, তাহলে বড়ো জোর সকলের এর ওপর থেকে নজর সরতে এক বছর লাগবে।

ঠিক তেমনই, একটি শরীরকে যদি পর্যাপ্ত মাত্রায় খেয়াল না রাখেন, তাহলে সেটির অস্তিত্বও বেশি দিন বজায় থাকা মুশকিল। কি তাই তো? ধরুন আপনার বয়স এখন ২২, একটি সুন্দর চেহারার মানুষ আপনি, শরীরে রোগ ব্যাথি বলতেও তেমন কিছু নেই, কিন্তু আপনার শরীরে প্রতি লাগাতার অবহেলার জেরে বছর ২৬-এ পৌঁছাতেই আপনার শরীরে জায়গা করে নিয়েছে নানা রোগ। আবার বেশি মাত্রায় মেদ জমায় আপনি খুব ভাবে চাইছেন কোন সাপ্লিমেন্টের সাহায্যে মেদ কমাতে। বাড়ির পাশের দাদা, আপনার বন্ধুর কাছে এই ধরণের সাপ্লিমেন্ট তো প্রচুর আছে, কিন্তু কোনটা নেবেন সেটি আপনি কিছুতেই বুঝতে পারছেন না। বুঝলাম, কিন্তু একবার বলুন তো ওই সাপ্লিমেন্ট নিলে না হয় মানলাম আপনার মেদ কমল, কিন্তু আপনার শরীরে আর কোন ব্যাথি জন্ম নেবেনা, সেটি কি বিশ্বাসের সাথে বলতে পারেন?

আসলে আপনি যখন জানেনই না আসল সমস্যাটি কোথায়, আপনি কি করে সেটির সমাধান করবেন? এই ক্ষেত্রে একমাত্র সাহায্য করতে পারেন একজন অভিজ্ঞ ডায়টেশিয়ান। Spark.Live -এর পরিবারের সাথে যুক্ত এমনই একজন বিশিষ্ট ডায়টেশিয়ান হলেন শ্রেয়া চৌধুরী। যিনি এখনও পর্যন্ত প্রায় শতাধিক রোগীকে উপযুক্ত ডায়েট লিস্ট প্রদান করে সুস্থ করে তুলেছেন। চলুন তার সাথেই আলোচনার মাধ্যমে জানা যাক কিছু বিষয়, যেগুলি আমাদের দর্শক বন্ধুদের জিজ্ঞাস্য-

১। প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরী মানে শাক সবজি নাকি সুস্থ্য থাকতে ফুড সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন আছে?

ডায়টেশিয়ান শ্রেয়ার সাথে যোগাযোগ করতে, এই লিংকে ক্লিক করুনhttps://spark.live/consult/natural-foods-diet-plan-shreya-chowdhury-bangla/

ডায়াটেশিয়ান শ্রেয়া :

প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরী শাক-সবজি তো আমাদের সকলের জন্য সবচাইতে ভালো. যদি আমরা একটা ব্যালেন্স ডায়েট মেনে চলতে পারি, তাহলে কোনো শারীরিক সমস্যায় থাবা বসাতে পারে না। বা যদি কোন শারীরিক সমস্যা এসেও থাকে তাহলে যদি আমরা প্রতিদিনের ডায়েটে শাক-সবজি, তরকারি, গ্রীন ভেজিটেবলসকে জুড়ে দিতে পারি, তাহলে নতুন করে কোন ফুড সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন হয় না।

তবে হ্যাঁ, যদি কোনও বায়োক্যামিক্যাল টেস্টে দেখা যায় যে রোগীর শরীরে মিনারেলস, পরাশিয়াম, সোডিয়াম মানে খনিজের অভাব কাছে, তাহলে সেই ক্ষেত্রে ফুড সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন থাকে. কিন্তু একটা বিষয় কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ- কোনও কোম্পানির লোক, বা জানা শোনা কেউ কোন ফুড সাপ্লিমেন্ট রেকমেন্ড করলে, কিনবেন না। এতে রোগ বাড়বে বই কমবে না, এমনকি আরো নানা ভাবে সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। একমাত্র চিকিৎসক বা কোন ডায়টেশিয়ান প্রেস্ক্রাইব করলে, তবেই সেই ফুড সাপ্লিমেন্ট নিন। কারণ আপনার শরীরে কোন ফুড সাপ্লিমেন্ট কতটা মাত্রায় প্রয়োজন, সেটি একমাত্র তারাই বলতে পারবেন।

২। ডায়বেটিস থাকলেই শোনা যায়, মাটির তলায় উৎপন্ন শস্য খাওয়া উচিত নয়, কতটা ঠিক?

ডায়টেশিয়ান শ্রেয়ার সাথে যোগাযোগ করতে, এই লিংকে ক্লিক করুনhttps://spark.live/consult/natural-foods-diet-plan-shreya-chowdhury-bangla/

ডায়াটেশিয়ান শ্রেয়া :

না, এই কথাটি পুরো মাত্রায় সঠিক নয়। ডায়বেটিস থাকলেই যে মাটির তোলার শস্য একেবারেই ছোঁয়া যাবেনা, তা একেবারেই নয়। তবে ডায়াবেটিক রোগীদের অন্যান্যদের তুলনায়, বেশি মাত্রায় নিজের শরীর-স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখতে হয়। সেই ক্ষেত্রে বলব- মাটির তলার ফসলের মধ্যে আলু, মিষ্টি আলু, ওল এইগুলির মধ্যে শর্করার মাত্রা অনেকটাই বেশি থাকে, তাই এইগুলি কম পরিমানে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ একেবারেই খেতে না পারাটা, কোনও রোগীর পক্ষেই মানা অসম্ভব। যদি পরিমানটির ব্যালান্স রাখা যায়, যেমন- কোনো একদিন দুপুরে কোন তরকারিতে চারটি আলুর পিস্ খেয়ে নিলে, রাতে একটাও আর খাওয়া চলবে না। কিন্তু সেখানে আলুর জায়গায় অন্য কোনও হাই ক্যালোরি যুক্ত খাবার যদি খেয়ে ফেলেন তখন কি হবে?

আরও পড়ুন –সুস্থ থাকতে কি খাবেন, কতটা খাবেন এই লক ডাউনে ?জেনে নিন একজন অভিজ্ঞ ডায়েটিশিয়ানের কাছে

এইজন্যই আমাদের মতো একজন ডায়টেশিয়ান পারেন তার সঠিক সমাধান দিতে। নিজের পছন্দ মতো একটা ডায়েট চার্ট মেনে আপনি চলতেই পারেন, কিন্তু আপনি কি করে জানবেন যে আপনার শরীরে ঠিক কোন কোন খাদ্যজ খনিজের অভাব রয়েছে, আর খাবারের পরিমানটা ঠিক কতটা হলে, এই সব অভাবগুলি দূর করা সম্ভব হবে? এই ক্যালোরি ব্যালেন্স করার জন্যই প্রয়োজন একজন অভিজ্ঞ পুষ্টিবিদের। তারা আপনার ডায়াবেটিসের আধিক্য অনুসারে, আপনার ডায়েটে কোন খাবারটি, কতটা পরিমানে থাকা উচিত, তার সম্পূর্ণ চার্ট দিতে পারবে। মজার বিষয়টি হল- একজন পুষ্টিবিদের কাছে গেলে, বা তার গাইডেন্স মেনে চললে, আপনাকে নিজের পছন্দের কোন খাবারই, শরীরে ক্রমবর্ধমান রোগের জন্য একেবারে ত্যাগ করতে হবে না. নিজের পছন্দের খাবারগুলি খেয়েও আপনি সুস্থ থাকতে পারবেন।

৩। শরীরের জন্য শুধু কি গ্রীন টিই ভালো? নাকি লিকার টিতেও রয়েছে ভালো স্বাস্থ্যগুণ?

ডায়টেশিয়ান শ্রেয়ার সাথে যোগাযোগ করতে, এই লিংকে ক্লিক করুনhttps://spark.live/consult/natural-foods-diet-plan-shreya-chowdhury-bangla/

ডায়াটেশিয়ান শ্রেয়া :

সুস্বাথ্যের জন্য গ্রিন টি ভীষণ মাত্রায় ভালো। তবে ব্ল্যাক টি বা যে চা টি কোনো চিনি আর দুধ ছাড়া তৈরী, সেটিও কিন্তু আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ মাত্রায় উপকারী. ব্ল্যাক টিয়ের মধ্যে থাকা – থায়াফ্লাভিন, পলিফেনল বিভিন্ন এন্টি-একসিডেন্ট আমাদের শরীরে ফ্রি রাডিক্যালের কার্যক্ষমতা রোধ করে. মানে ফ্রি রাডিক্যালের দরুন যে সেলগুলি ক্ষতিগ্রস্থ হয়, সেগুলির বলা চলে মেরামতির কাজ করে। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে, এই চায়ের মধ্যেই যখন চিনি বা দুধ অ্যাড করা হবে, তখনই তার বেশিরভাগ কার্যকারিতা, গুন্ নষ্ট হয়ে যাবে।

৪। নিরামিষাশী যারা, তাদের কোন কোন খাবারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত শরীর পর্যাপ্ত পুষ্টির জন্য?

ডায়াটেশিয়ান শ্রেয়া :

নিরামিষাশী যারা তাদের প্রধান যে সমস্যাটি হয়, সেটি হল- তাদের খাদ্য থেকে তারা যথার্থ পরিমানে প্রোটিন, ভিটামিন বি -১২ পায় না। ফলে তারা শরীরে পুষ্টি বজায় রাখার জন্য, যদি প্রতিদিনের প্রাতরাশে – ছোলা ভিজানো, দুপুরের ডায়েটে ডাল জাতীয় খাবার, সয়াবিন, সবুজ মুগ ডাল ভিজানো আবার দিনের যে কোন সময়ে ড্রাই ফ্রুটস – আখরোট, আমন্ড, কাজু বা অন্য যে কোন বাদাম জাতীয় জিনিস নিজেদের ডায়েট লিস্টে রাখে, তাহলে পর্যাপ্ত পুষ্টি পাওয়া সম্ভব।

আরও পড়ুন –সঠিক ডায়েটের মধেই লুকিয়ে রয়েছে সুস্বাস্থ্যের সন্ধান

যারা মাছ, মাংস, ডিম্ একেবারেই ছুঁয়ে দেখেন না, তাই তাদের প্রতিদিনের ডায়েটে দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার রাখাটা আবশ্যিক। সেটি পনির হোক, ছানার ডালনা বা ছানার কোনও তৈরী জিনিস, বাটার মিল্ক, দইয়ের ঘোল বা সারা দিনে এক গ্লাস দুধ, ভীষণ উপকার দেবে। আবার যারা এইগুলি খান না, তারা আমন্ড মিল্ক, সয়াবিন মিল্কের মতো বা সয়াবিনের কোনো প্রোডাক্ট খেতে পারে, যেগুলি তাদের পর্যাপ্ত পুষ্টি জোগাতে সক্ষম।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।