শিশুর অপুষ্টি কাটাতে, মায়ের দুধ পান করানো কতটা প্রয়োজনীয়? (Breastfeeding how much impactful to prevent childhood malnutrition?)

  • by

গর্ভাবস্থা থেকে শুরু করে, সন্তান ভূমিষ্ঠ হয় পর্যন্ত শিশুর সবচাইতে বেশি যত্ন একমাত্র একজন মা- ই নিয়ে থাকেন। আর তার জন্য বিভিন্ন পন্থাও অবলম্বন করেন। এক কথায়, কোনো বাঁধাই তার সামনে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনা, সন্তানকে ভালো রাখার স্বার্থে। ডায়েট এবং পুষ্টিকে মাথায় রেখেই জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের আলোচ্য টপিক অপুষ্টির কারণ ও তার বিরুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য সচেতনতা।

অপুষ্টির আঁতুড়ঘর –

বহু ডায়টেশিয়ানদের মতে, অপুষ্টির আঁতুড়ঘর হল গর্ভাবস্থা। শুনতে অবাক লাগলেও, এটাই সত্যি, একটি শিশুর পুষ্টি নির্ধারণ করে মায়ের স্বাস্থ্য এবং মায়ের খাদ্যাভ্যাসের ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থা থেকে শুরু করে জন্মের এক হাজার দিন অবধি নবজাতকের জীবনে প্রথম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তরে শিশুর প্রাথমিক পর্যায়ে যথাযথ পুষ্টি প্রয়োজন। কারণ ডায়েট এবং পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে, সঠিক পুষ্টি না পাওয়া শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশে বিশাল ক্ষতি হতে পারে। যা পুনরায় পূরণ করা যায় না।

ফলে শিশুটির সুস্থ বিকাশের জন্য প্রতিটি বাবা-মায়ের যে বিষয়গুলিতে মনোযোগ দেওয়া উচিত সেই গুলি হলো,

মায়ের দুধ পান –

জন্মের পরই সন্তানকে বুকের দুধ পান করানো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। যা প্রতিটি চিকিৎসক আপনাকে পরামর্শ দিয়ে থাকেন, প্রকৃতপক্ষে শিশুদের সুস্থ বিকাশের জন্য, পুষ্টির অভাব এড়াতে অসুস্থতার সময় এবং পরে তাদের সঠিক ডায়েট প্রয়োজন। নবজাতক এবং শিশুর অনাক্রম্যতা বাড়ানোর জন্য শিশুর জন্মের এক ঘন্টার মধ্যে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো অতন্ত্য প্রয়োজন। শুধুতাই নয় মনে রাখবেন, দু’বছর বয়স পর্যন্ত বাচ্চাদের মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত। এটি নবজাতককে রোগ সংক্রমণ এবং অপুষ্টি থেকে রক্ষা করে।

স্তন্যপানেই ঘটে শিশুর যথার্থ বিকাশ –

মায়ের বুকের দুধ নবজাতকের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এটির মাধ্যমে শিশুটির শরীরে সমস্ত পুষ্টি সরবরাহ হয়। ফলে এটি তাদের শরীরে সম্পূর্ণ পুষ্টি প্রদান করে এবং বিপাকের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করে। মনে রাখবেন, সন্তানকে সঠিকভাবে খাওয়ানোর মাধ্যমে মায়ের এবং সন্তানের জন্মের আগে ও পরে তার মানসিক-সামাজিক বিকাশ ঘটে।

এছাড়াও একই সাথে, যে মায়ের দুধ শিশুর উন্নত মানসিক এবং শারীরিক বিকাশের জন্য দায়ী এবং এটি একটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করে।

আজই লগ ইন করুন – https://spark.live/bengali/

প্রোটিন খাওয়ান-

এমন কয়েকটি খাবার রয়েছে যেগুলি থেকে আপনার সন্তান পুষ্টি এবং প্রোটিন পেতে পারে। যেমন, সোয়া, মটর, শিম, ডিম, ফল এই সবগুলি গুলি খাওয়ালে শিশুর শরীরে পুষ্টিগত মান সবটাই বজায় থাকবে। বেশিরভাগ ফলের রস করে খাওয়ালে, খুব সহজেই আপনার শিশু তা খেতে পারবে আর যথার্থ পুষ্টিও পাবে।

ড্ৰাই ফ্রুটস

একই সাথে, মা-বাবার মনে রাখা উচিত যে কিশমিশ, বাদাম বা কাজু জাতীয় শুকনো ফলও বাচ্চাকে দেওয়া উচিত, তবে এগুলিতে বেশি ক্যালরি থাকায় এই জিনিসগুলি কম খাওয়া উচিত। প্রতি সপ্তাহে বিভিন্ন শাকসব্জী যেমন গাজর, বিন, মটর, স্টার্চ জাতীয় খাবার খাওয়াতে পারেন।

আরো পড়ুন-

ডেয়ারি প্রোডাক্টস-

দুগ্ধজাত খাবারের মধ্যেও লুকিয়ে আছে পুষ্টির ফর্মুলা। দুধ যেমন হার শক্ত করতে সাহায্য করে তেমনি, ডেয়ারি প্রোডাক্টস শিশুর শরীরে আনে স্ট্রেংথ, শরীরকে করে তোলে মজবুত। তাই শিশুকে চর্বিবিহীন বা কম-ক্যালোরিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার যেমন দুধ, দই, পনিরও খাওয়াতে পারেন।

আয়রন

মনে রাখবেন, বাচ্চাদের প্রতিদিনের ডায়েটে আয়রন থাকাটা প্রয়োজন যাতে তাদের মস্তিষ্কের যথাযথ বিকাশ ঘটে। এছাড়াও ক্যালসিয়াম প্রয়োজনীয় হাড় এবং পেশীগুলির বিকাশেও সহায়তা করে। তাই আপনার শিশুকে দুগ্ধজাতীয় খাবার গুলিও খাওয়াতে পারেন।

আজই লগ ইন করুন – https://spark.live/bengali/

পুরো প্রতিবেদনটিতে শুধুমাত্র শিশুর জন্মানোর পরের ডায়েটের কথাই বলা হয়েছে, তার কারণ যদিও আগেই স্পষ্ট করা হয়েছে। মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থাতেই যদি গর্ভে বেড়ে ওঠা শিশুটির পুষ্টির প্রতি সঠিকভাবে যত্নবান হয় যায়, তাহলে কোনো শিশুর অপুষ্টির শিকার হওয়ার সম্ভাবনা বহু মাত্রায় কমে যায়। আবার শিশুটি জন্মানোর পর যদি এক বছর তার পুষ্টির বিশেষ খেয়াল রাখা যায়, সময়ে সময়ে খাওয়ানো, সঠিক পরিমান ও সঠিক খাবার খাওয়ানো যায়, তাহলে সেই বাচ্চাটি কখনোই অপুষ্টির শিকার হবে না। তাই আমাদের দেশকে অপুষ্টির হাত থেকে বাঁচাতে, তার প্রিপারেশন নেওয়া উচিত মায়ের গর্ভে শিশু থাকা অবস্থাতেই।

আরো পড়ুন-

Spark.Live এর ডায়েট সেশন হল একমাত্র পথ-

ভারতের নিজস্ব অ্যাপ-এ এই মুহূর্তে যুক্ত আছে ভারতের প্রথম সারির সকল পুষ্টিবিদরা, যারা সকলেই লাইসেন্সড প্রাপ্ত, এবং দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা-সম্পন্ন। নিজের বাড়িতে বসেই, আপনি অনায়াসে যাদের সাথে যুক্ত হতে পারবেন নিজের ফোন, কম্পিউটার বা ল্যাপটপের সাহায্যে। অনলাইনে সেশন নিচ্ছেন বলে ভাবছেন কতটা ঠিকঠাক ডায়েট চার্ট পাবেন বা সমস্যার সমাধান হবে? একেবারেই নিশ্চিন্ত থাকুন। কারণ প্রত্যেক পুষ্টিবিদরাই আপনার সমস্যাটি জানার পর কিছু নির্দিষ্ট পরীক্ষার মাধ্যমে আপনার জন্য কোনটি ঠিক আর কোনটি ভুল সেটির ওপর ভিত্তি করেই আপনার ডায়েট চার্ট দেবেন। এবং রুটিন চেকাপের ব্যবস্থাও থাকবে অনলাইনে। সবচাইতে বড় বিষয়, এখনো পর্যন্ত এই অ্যাপ-এর মাধ্যমে ডায়েট সেশন নিয়ে উপকৃত হয়েছেন সহস্রাধিক মানুষ। তাই আপনার ভাবনার কোনো কারণই নেই। আজই নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হতে সেশন নিন এই লিংকে ক্লিক করে –https://spark.live/dietician-nutritionist-consultation/

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।