শাখা পলা শুধুমাত্র স্বামীর আয়ু বাড়ায় না, ভালো রাখে আপনার শরীরও (Benefits of wearing Sakha Pola after marriage)

সদ্য বিয়ের পর বড়জোর একমাস বা এক বছর, তারপরেই, হাতের শাখা পলার ভার নিতান্তই অনেক বেশি বলে মনে হয়, আর নির্দ্বিধায় তা খুলে যত্ন করে রেখে দেন, বিবাহিত মহিলারা. কারণ প্রতিদিনের আউটফিটের সাথে শাখা পলা জাস্ট মানায় না. তবে আবার কোনো অনুষ্ঠানে যেখানে ইন্ডিয়ান আউটফিট বা শাড়ি পড়তে হয়, সেখানে কিন্তু অনায়াসেই হাতে গলিয়ে নিতে দেখা যায়, ওই খুলে রাখা শাখা পলাকে. যদিও এটি সম্পূর্ণ যার যার ব্যক্তিগত বিষয়. কিন্তু বিয়ের পর এই শাখা পলা পড়ার পিছনে জ্যোতিষশাস্ত্র ও বাস্তবিক কিছু যুক্তি আছে, যেগুলিকে কিন্তু একেবারেই ফেলে দেওয়া যায় না.

চলুন চোখ রাখা যাক কেন বিয়ের পর বিবাহিত মহিলাদের শাখা পলা পড়তে হয়?

১. জ্যোতিষশাস্ত্র ও বৈজ্ঞানিক মত অনুসারে পলা পড়লে মানুষের মানুষের ধৈর্য, সাহস, মনোবল বৃদ্ধি পায়. প্রসঙ্গত, এটা স্বাভাবিক যে যখন একজন মহিলা বিয়ের পর, বরের হাত ধরে, নতুন কোন পরিবারে আসেন, তখন তার অনেক ধৈর্য আর সাহস লাগে সব কিছু মানিয়ে নিতে, নতুনকে গ্রহণ করতে. কারণ সেখানে তার বেশিরভাগ মানুষরাই অজানা. সকলের সাথে মানিয়ে উঠতে, সকলকে বুঝে উঠতে, বেশ খানিকটা সময় লাগে সব মেয়েদের. সেক্ষেত্রে পলা অনেকটাই সাহায্য করে মনোবল জোগাতে.
আবার শুধুমাত্র জ্যোতিষশাস্ত্রে মানা হয়, পলা স্বাস্থ্যহানী ও দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করে.

২. আমরা অনেকেই জানি, জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে পলা বা লাল প্রবাল অশুভ মঙ্গলের প্রভাব থেকে বাঁচায়. শুধু লাল রং-এর পাথরই নয়, লাল বর্ণের যে কোনও বস্তু বা পোষাক পরলেও মঙ্গলের অশুভ প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। একারণেই হিন্দু বিবাহিত মহিলাদের পলা পরতে বলা হয়, সিঁথিতে দিতে হয় লাল রঙের সিঁদুর. যাতে তাদের নতুন সংসারের ওপর কোনো বাজে প্রভাব না আসতে পারে. এই ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক কোনো যুক্তি মেলে নি.
তবে বৈজ্ঞানিকদের মতে, লাল রং সাহস, কর্মশক্তি, গতির প্রতীক. আর যে কোনো রকমের বলা আমাদের হাতের কব্জির কাছের কিছু নার্ভে প্রেসার ক্রিয়েট করে রাখে. যেটি আমাদের সুস্বাথ্যের জন্য ভালো.

৩. তাই ভাবা যেতেই পারে, শাখা বা পলা শুধুমাত্র যে বিবাহিত মহিলারা পড়েন তার স্বামীর দীর্ঘায়ু কামনায়, তা নয়. স্বভাবতই বিয়ের পর মেয়েদের জীবনে আসে অনেক দায়িত্ব, শুরু হয় অন্য এক জীবন যুদ্ধের. সে ক্ষেত্রেও মহিলাদের কর্মক্ষমতা ভালো রাখতে, তাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য, শাখা পলা পড়া বেশ ভালো.

৪. এইবার আসা যাক শাখার কোথায়. মূলত শাখা শরীর বা মাথা ঠান্ডা করতে সাহায্য করে. মেয়েদের মাথা ঠাণ্ডা রেখে সুখে সংসারধর্ম পালন করতে শাঁখা সাহায্য করে। রাজস্থানের মহিলাদের তাই নিজেদের হাতে একের অধিক শাখা পরে থাকতে দেখা যায়. কারণ ওই গরম আবহাওয়ায়, শরীর ঠান্ডা রাখে শাখা.
আবার এটাও মনে করা হয়, শাখার সাদা রং পবিত্রতা, শুদ্ধতা, সতীত্ব, এবং যে কোনো রকম শুভ সূচনার প্রতীক.

৫.তবে নরমাল সাদা শাখার একমাত্র কার্যগুন আছে. সোনার প্রলেপ দিয়ে হাতের শাখাকে আরো সুন্দর করে তোলা গেলেও, তার কার্যগুন কিছু আর থাকে না. মানে অনেকে সোনা দিয়ে বাঁধানো শাখা পড়তে ভালোবাসেন. আবার এখন বাজারে অনেক শাখার অদ্ভুত ডিজাইন পাওয়া যায়, তাতে থাকে তার ম্যাটেরিয়ালেরও তারতম্য. এইগুলিতে কিন্তু কোনো কাজই হয় না.

তো এই বার বুঝতে পারছেন, কেন বিয়ের পর শাখা পলা পড়ার পরামর্শ দেন সকলে? আপনি শাখা পলা পড়েন? কমেন্টে জানান আমাদের.

Tags:

2 thoughts on “শাখা পলা শুধুমাত্র স্বামীর আয়ু বাড়ায় না, ভালো রাখে আপনার শরীরও (Benefits of wearing Sakha Pola after marriage)”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।