নখ থেকে মুখের ত্বক- সবের জন্যই ধন্বন্তরী অলিভ ওয়েল (Benefits of olive oil for skin)

  • by

শীত পড়লেই আমাদের স্নানঘরে পাকাপাকি জায়গা করে নেয়, অলিভ অয়েল. স্নানের আগে বা পরে, অলিভ অয়েল না মাখলে, যতই স্কিনকে বডি লোশনের প্রলেপে ঢেকে রাখুন না কেন, স্কিনের উজ্বলতা একেবারে উধাও হয়ে যায়. বিশেষ করে সাবান বা বডি ওয়াশ দেওয়ার পর, যদি শুধু মাত্র আপনি আপনার বডি লোশনটির ওপর ভরসা করে থাকেন, তাহলে তো স্কিনের রুক্ষতা কোনোভাবেই কাটাতে পারবেন না.

তাই শীতকালে তো অলিভ অয়েল মাস্ট মাস্ট হ্যাভ. কিন্তু শুধু কি শীতকালে? সব রকম সিজিনেই কতটা উপকারী জানেন অলিভ অয়েল? আমাদের ত্বকের পুষ্টির জন্য বলা যায় অলিভ অয়েলের অতিরিক্র বা পরিপূরক কিছু হয় না. নারকেল তেল স্কিনকে কোমল আর দাগছোপহীন করে তুললেও অলিভ অয়েলের মতো উজ্বল ত্বক দেওয়ার ক্ষেত্রে আমি কিন্তু নাম করতে পারলাম না. এক একটা উপাদানের এক এক ধরণের কাজ থাকে.

তো চলুন দেখে নেওয়া যাক অলিভ অয়েল আমাদের স্কিনকে কি কি ভাবে পুষ্টি যোগায় আর কিভাবে এটি ব্যবহার করা বেস্ট? প্রথমে চোখ রাখবো কি কি পুষ্টিগুণতা আছে অলিভ অয়েলের.

অলিভ অয়েলের মধ্যে কিন্তু কিছু প্রকারভেদ আছে. যেমন-

এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল
স্ট্যান্ডার্ড ভার্জিন অলিভ অয়েল
রিফাইনড অলিভ অয়েল.

তবে এগুলির মধ্যে সবচেয়ে কার্যকরী এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল. আপনি নিশ্চয়ই জানেন, অলিভ অয়েল যেমন স্কিনের জন্য ব্যবহার করা যায় তেমনি খাওয়াও যায়.

১.এন্টি-এজিং প্রোপারটিস

অলিভ ওয়েলে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন ই থাকে আর থাকে এন্টি একসিডেন্ট, যা আমাদের স্কিনকে দূষণের বাজে প্রভাব, সূর্যের ইউভি রশ্মির থেকে রক্ষা করে. স্কিনের কোষগুলিতে পুষ্টি যোগায়. ফোমে শরীরে বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না.

কি করবেন-

স্নানের আগে বা ঘুমাতে যাওয়ার আগে কিছুটা অলিভ অয়েলের সাথে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে নিন. তার পর ভালো করে মুখ সহ সারা শরীরে মেখে ভালো করে ম্যাসাজ করুন. স্নানের আগে করলে অন্তত আধঘন্টা দিন টেলটিকে শরীরে অবসর্ব হতে. আর রাতে করলে, ওভারনাইট রাখুন. পরদিন বডি ওয়াশ দিয়ে ধুয়ে ফেলুন.

২. ময়শ্চারাইসার

অলিভ অয়েল এমন একটি উপাদান যেটি আপনার স্কিন সংক্রান্ত সকল সমস্যা নিমেষে দূর করে. যাদের স্কিন খুব ড্ৰাই, তাদের জন্য তো যুগান্তকারী এই তেলটি. নিয়মিত ব্যবহার আপনার স্কিনে একটা আলাদা জেল্লা এনে দেয়.

কি করবেন-

অফিস থেকে ফিরে বা স্নানের পরে, ক্রিম বা ময়শ্চারাইসারের পরিবর্তে ব্যবহার করুন অলিভ ওয়েল. মুখ ভালো করে ধুয়ে নিয়ে, কোনো টোনার লাগান. তারপর কিছুটা সময় দিন টোনারটি শুকিয়ে যেতে. এইবার অলিভ অয়েলের চার ড্রপ নিয়ে মুখে লাগান. আঙুলের যোগ দিয়ে সামান্য ম্যাসাজ করুন. এইভাবেই সারা রাত রাখতে পারেন, আর দিনের বেলা হলে, ১৫ মিনিট রেখে মুখ হালকা উষ্ণ জলে ধুয়ে ফেলুন.

৩. ফাটা গোড়ালিকে মোলায়েম করে

শীতের সময় পায়ের গোড়ালি ফাটে, ঠিকঠাক যত্নের এভাবে. আবার অনেকের সারা বছরই পায়ের গোড়ালি ফাটতে দেখা যায়. সেই ক্ষেত্রে ব্যবহার করুন অলিভ ওয়েল.

কি করবেন-

একটি পাত্রে গরম জল নিন, তাতে একে একে কিছুটা পাতিলেবুর রস দিন, কয়েক ড্রপ অলিভ অয়েল দিন. এরপর জলটিতে পা চুবিয়ে রাখুন, যতক্ষণ না জলটি নরমাল টেম্পেরেচারে আসছে না. জলটি ঠান্ডা হয়ে গেলে, একটু দুই পায়ের পাতা কচলে নিন. তারপর কোনো বডি ওয়াশ দিয়ে ধুয়ে ফেলুন. ফের হাতে কয়েক ড্রপ অলিভ ওয়েল নিয়ে ভালো করে মালিশ করুন পায়ের পাতায়. বিশেষ করে গোড়ালির ফাটা অংশ গুলিতে. এরপর মজা পরে নিন. ফাটা তো কমবেই, সাথে একটা আলাদা স্মুথনেস দেবে এই পদ্ধতিটি.

৪. নখ ভালো রাখে

অনবরত নখে নেল পালিশ পাল্টাতে পাল্টাতে আমাদের নখের ওপরের অংশটি ভীষণ মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়. এই ক্ষেত্রেও অলিভ অয়েলের জুড়ি মেলা ভার.

কি করবেন-

সপ্তাহে অন্তত দুই দিন একটা যতনে সামান্য অলিভ ওয়েল নিয়ে নখের ওপর ঘষুন. তেল মাখানো অবস্থাতেই নখগুলি রাখুন কিছুক্ষন. আবার যখন রিমুভার দিয়ে নেল পেইন্টটি তুলবেন তখনও একবার করে তেল লাগিয়ে নিন নখে. তাতে নখের ক্ষয়ে যাওয়া বিষয়টি আটকানো সম্ভব.

তো বুঝতে পারছেন নিশ্চই, আপনার স্কিনকে ভালো রাখতে, বয়সের সাথে সাথে স্কিনকে আরো উজ্বল করে তুলতে, নখ থেকে মুখের স্কিন সবিতার জন্যই ধন্বন্তরি হল অলিভ ওয়েল. আপনি ব্যবহার করেন তো অলিভ ওয়েল? যদি না করেন, তো আজ থেকেই শুরু করুন ব্যবহার করা, আমাদের বলা পদ্ধতিতে, ফল মিলবে মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবহারে.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।