নারকেল তেলের গুনে পুষ্টি যোগান ত্বকে (Benefits of coconut oil for skin )

  • by

বরাবরই জেনে এসেছি চুলের পুষ্টি জোগাতে নারকেল তেলের থেকে বেশি ভালো আর কিছুই হয় না. নারকেল তেলের পুষ্টিগুণতা এতটাই ভালো যে আমাদের মা দিদা কাকিমাদের চুলের ঘনত্বই তার প্রমান.
তবে জানেন কি এই একই নারকেল তেল চুলের সাথে সাথে আপনার ত্বককেও পুষ্টি যোগায়. বিশেষ করে শীতকালের প্রতিদিনের রূপচর্চায় নারকেল তেল একটি চমৎকারী উপাদান.
বাজার চলতি প্রচুর নারকেল তেল রয়েছে. নিজের প্রয়োজন স্বরূপ যে কেন একটিকে বেছে নিতে পারেন. তবে সেটিকে কিভাবে স্কিনের জন্য ব্যবহার করবেন, চলুন সেটি জেনে নেওয়া যাক.
১. চোখের তোলার কালোভাব, বা ফোলা ভাব কমাতে যুগান্তকারী হলো নারকেল তেল. ডার্ক সার্কেলের সাথে সাথে চোখের কনের বয়সের চাপ পড়াও দূর করে. রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অল্প নারকেল তেল নিয়ে চোখের নিচে হালকা লাগিয়ে নিন, ব্যস.
২. ফেস ক্লিন্সার হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন বিশেষ করে আপনার যদি ড্ৰাই আর কম্বিনেশন স্কিন হয়. মুখটা প্রথমে জল দিয়ে ধুয়ে নিন, তারপর হাতে পরিমাণ মতো নারকেল তেল নিয়ে দু’হাতে ঘষে মুখে মেখে নিন। মুখ বেশি রগড়াবেন না। বৃত্তাকারে মাসাজ করুন। কয়েক মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন, অথবা হালকা গরমজলে ভেজানো তুলে দিয়ে মুছে নিন। ত্বক পরিষ্কারও হবে, আর্দ্রও থাকবে।
৩. সান -ট্যান তুলতে ব্যবহার করতে পারেন. রোদ থেকে ফিরে মুখে জলে ভেজানো তোয়ালে চাপা দিয়ে 10 মিনিট রাখুন। ত্বক ঠান্ডা হয়ে গেলে নারকেল তেল মেখে নিন। নারকেল তেল ত্বকের হারানো আর্দ্রতা ফিরিয়ে এনে জ্বালাভাব কমায়, ত্বক শীতল করে।
৪. রাতে কোল্ড করিম না মেখে নারকেল তেলের সাথে সামান্য এলোভেরা জেল ভালো ভাবে মিশিয়ে মুখে লাগান. সিরামের মতো কাজ করবে.

এই তো গেল মুখের কথা. এছাড়াও কিন্তু আরো নানা ভাবে ব্যবহার করা যায় কোকোনাট অয়েল. আমরা স্ট্রেচ মার্ক কমাতে প্রচুর বাজার চলতি ক্রীম ব্যবহার করে থাকি. একটান ব্যবহার করেও স্ট্রেচ মার্ক সত্যি ই উধাও হয় কি? আমার মতে অনেকেরই উত্তর নাই হবে.

তবে শরীরের অবাঞ্চিত দাগ কমাতে ক্রীমের পরিবর্তে যদি নারকেল তেল ব্যবহার করা হয়, তাহলে ব্যাপারটা কেমন হবে. ঠিকই শুনছেন, নারকেল তেলের নিয়মিতই এবং সঠিক ব্যবহারে আপনার মুখশ্রী থেকে শরীর পুরোটাই হয়ে উঠতে পারে স্কার্স ফ্রি.
তো চলুন দেখে নেওয়া যাক কিভাবে স্ট্রেচ মার্ক বা স্কার্স কমাতে কিভাবে ব্যবহার করবো কোকোনাট অয়েল.
অনেক সময় কাজের চাপ, ডিপ্রেশন এর জেরে আমাদের স্কিনে বিশেষ করে মুখে কালো কালো ছোপ পড়ে. একটা uneven টোন দেখা যায়, মুখের ত্বকে. সেই ক্ষেত্রে রাতে শুতে যাওয়ার আগে, দুই টেবিলস্পুন নারকেল তেল সামান্য গরম করে নিয়ে, একটু ঠান্ডা হলে সারা মুখে আঙ্গুল দিয়ে হালকা ম্যাসাজ করুন. অন্তত ৫ মিনিট তার পর. ঘুমিয়ে পড়ুন, একটু চ্যাটচ্যাটে লাগবে ঠিকই. সকালে কোনো ফেস বাস দিয়ে মুখ দুলেই বুঝতে পারবেন স্কিনে পার্থক্য.
গর্ভবতী হওয়ার পর থেকেই তলপেটের দুইপাশ দিয়ে ফাটতে শুরু করে. আর ডেলিভারি পর্য্যন্ত স্ট্রেচ মার্ক গুলি শরীরে আঁটোসাঁটো ভাবে বসে পড়ে, আবার অনেকের হঠাৎ মোটা হয়ে যাওয়ার ফলেও স্ট্রেচ মার্ক দেখা যায়. উভয়ের ক্ষেত্রেই নারকেল তেল ভীষণ কার্যকরী.
প্রেগনেন্ট মহিলাদের ক্ষেত্রে বলবো, বেবি বাম্প একটু একটু হওয়ার সাথেই, প্রতিদিন নিয়ম করে পেটেরও শরীরের যেখানে যেখানে স্ট্রেচ মার্ক পড়ার সম্ভাবনা আছে, সেই জায়গাগুলিতে স্নানের এক ঘন্টা আগে কিংবা, রাতে গুমাতে যাওয়ার আগে হালকা গরম করা নারকেল তেল লাগান. আর একদম হালকা একটা ম্যাসাজ করুন. এতে স্ট্রেচ মার্ক কোনোভাবেই আপনার শরীরে পড়তে পারবেনা.
হেয়ার রিমুভ এর পর স্কিন অনেকসময় হার্ড হয়ে যায়. সে ক্ষেত্রে সাথে সাথে লাগান নারকেল তেল, কোনো রফনেস আসবে না
সপ্তাহে চারদিন করে স্নানের আগে নিয়মিত নারকেল তেল মাখলে, যান খুব একটা আপনার শরীরে জায়গা করতে পারবে না. ত্বক থাকবে নরম ও উজ্বল.
সব শেষে বলবো মেক উপ রিমুভার হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন কোকোনাউট অয়েল. কটন সামান্য নারকেল তেল নিয়ে তুলে ফেলুন আপনার মেকআপ. এতে স্কিন নৌরিষেডও হবে.

আপনি কিভাবে ব্যবহার করেন নারকেল তেল ? কমেন্টে জানান আমাদের

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।