স্কিনের রুক্ষতা কমাতে ব্যবহার করুন আয়ুর্বেদিক সাবান (Benefits of Ayurveda soap)

বাজারে নানান ধরনের সাবান আমরা দেখতে পাই বেশিরভাগ সাবানেই ক্যামিক্যাল জাতীয় দ্রব্য থাকে যা আমাদের স্কিনের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর। সাবান আমাদের স্কিনকে রুক্ষ করে দেয়। বিশেষ করে শীতকালে তো বটেই। টিভিতে বিজ্ঞাপন দেখে সাবান কেনার ইচ্ছে হয়নি এমন মানুষ খুব কমই আছেন। সাধারণভাবে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের সাথে কিছু চর্বিজাতীয় তেল মিশিয়ে সাবান তৈরি করা হয়। আর এই সাবান প্রতিনিয়ত ব্যবহার করলে আমাদের ত্বকে ময়েশ্চার দিনে দিনে কমে যায়। ত্বক নির্জীব হয়ে যায় এবং ত্বকে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। তবে আয়ুর্বেদিক সাবানের ক্ষেত্রে বিষয়টা একটু আলাদা এখানে পৌঁছাতে চর্বির বদলে প্রাকৃতিক অন্যান্য উপাদান ব্যবহার করা হয়।

চলুন দেখে নেওয়া যাক কিভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে সাবান তৈরি করবেন।

১) আয়ুর্বেদিক নিম সাবান

নিমপাতা এক কাপ, ২-৩ টেবিল চামচ নিমের রস, নিম এসেনশিয়াল অয়েল কয়েক ফোঁটা (না দিলেও সমস্যা নেই), লেবুর রস কয়েক ফোঁটা (না দিলেও সমস্যা নেই), অলিভ অয়েল ১ টেবিল চামচ, সোপ বেজ- আধ কাপ। এক্ষেত্রে বলে রাখা ভাল, সোপ বেজ হচ্ছে সাবান তৈরির মৌলিক উপাদান। এটা সব স্থানে পাওয়া না গেলেও বিদেশী পণ্য পাওয়া যায় এমন স্থানে পাওয়া যাবে। অনলাইন স্টোরগুলোতে পাওয়া যাবে। যদি সোপ বেজ খুঁজে না পান, তাহলে গ্লিসারিন বেজড যে কোন সাবান নিলেই হবে। ঘরোয়া সাবান তৈরির জন্য বিদেশী ‘পিয়ারস’ সাবানটি ভাল।

একটি সাধারণ পিয়ারস সাবান ব্যবহার করলেই চলবে নিম সাবান তৈরির ক্ষেত্রে। নিম পাতা ভাল করে বেটে নিন কোন পানি ছাড়াই। এরপর নিমের রসটুকুন খুব ভাল করে ছেঁকে নিন। আমাদের কয়েক টেবিল চামচ ঘন নিমের রস হলেই চলবে। একটি হাঁড়িতে জল নিয়ে নিন। এর ওপরে একটি পরিষ্কার কাঁচের বাটি দিয়ে দিন। এটাকে বলে ডাবল ব্রয়লার। যেভাবে আমরা চকলেট গলিয়ে নিন, ঠিক সেভাবেই সাবান গলিয়ে নেব। সোপ বেজ বা সোপ সরাসরি আগুনের তাপে না দিয়ে এভাবে গলিয়ে নিলেই বেশি সুবিধা। কাঁচের বা সিরামিকের বাটি ব্যবহার করুন। স্টিল ও প্লাস্টিকের বাটি এড়িয়ে চলুন। সোপ বেজ বা সাবান একটি পরিষ্কার গ্রেটার দিয়ে ভাল করে গ্রেট করে নিন এবং হাঁড়ির ওপরে বসানো বাটিতে দিয়ে দিন। একটি কাঠের চামচ দিয়ে আস্তে আস্তে নেড়ে গলিয়ে নিন। সোপ বেজ সম্পূর্ণ গলে গেলে তাপ থেকে সরিয়ে নিন এবং দ্রুত অন্যান্য উপাদানগুলো মিশিয়ে দিন। ওপরে একটু ফেনার মতো উঠলে সেটা চামচ দিয়ে ফেলে দিন। আপনার পছন্দমতো যে কোন ছাঁচে আগে থেকেই অলিভ অয়েল মেখে রাখুন। সমস্ত উপাদান মেশানো সোপ বেজ সেই ছাঁচে ঢেলে দিন। ঠান্ডা হতে দিন। ২৪ ঘণ্টা শেষ হবার আগেই দেখবেন তৈরি আপনার নিম সাবান! ছাঁচ থেকে বের করে সাধারণ সাবানের মতন ব্যবহার করুন।

এই নিম সাবান ১০০ ভাগ নিরাপদ কারণ এতে আছে ঘরে তৈরি করা নিমের রস। এই সাবান নিয়মিত ব্যবহারে আপনার ত্বক পাবে প্রাকৃতিক নিমের সকল গুণ এবং ক্রমস মিটে যাবে ত্বকের সকল সমস্যা।

২) হলুদ চন্দন সাবান

আগের মতো করেই হলুদ ও চন্দনের গুঁড়ো তাতে মেশালেই তৈরি হয়ে যাবে হলুদ চন্দন সাবান। এই সাবানের উপকারীতা হল, এই সাবান ব্যবহারের ফলে হলুদে প্রভাবে ত্বকের কোনো রকম অ্যাল্যার্জি হতে দেয় না ও ত্বকেও উজ্জ্বল করে। চন্দন থাকায় মুখে ব্রনের দাগ গুলিও মিলিয়ে যায়।

ফলে বাজারে কেনা সাবানের চেয়ে ঘরোয়া প্রদ্ধতিতে তৈরী সাবান ব্যবহার করলে, হাতেনাতে ফল পাবেন। কমেন্টে জানান, কেমন লাগলো আমাদের এই টিপস.

1 thought on “স্কিনের রুক্ষতা কমাতে ব্যবহার করুন আয়ুর্বেদিক সাবান (Benefits of Ayurveda soap)”

  1. Pingback: স্কিনের মৃত কোষগুলি রিমুভ করতে এই কফি বডি স্ক্র্যাবগুলি বেস্ট (Best three coffee scrub for women ) - Spark.Live বাংলা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।