বাংলাতে প্রেমের ২০ টা দারুণ উপদেশ

  • by

প্রেম নিয়ে মাঝে মাঝেই আমরা একটু কনফিউজ হয়ে যাই. কখনো প্রেমে পড়ার আনন্দে বা কখনো প্রেম ভাঙার দুঃখে আমরা বুঝতে পারি না কি কি করা উচিৎ.তাই বাঙালি প্রেমিক কুলের জন্য রইল উপযোগী কিছু প্রেমের উপদেশ. প্রেমে যখন মাথা কাজ করবে না তখন এই সব উপদেশে একটু চোখ বুলিয়ে নিতে পারো তোমরা.

কখন উপদেশ দরকার?
অনেক রোমান্টিক সম্পর্কেও ফাটল দেখা দিতে পারে ঠুনকো কোনো কথায় বা কাজে। এমনকি বিষয়টি বিচ্ছেদে গড়াতে পারে। ভালোবাসায় শ্রদ্ধা ও সম্মান থাকা উচিত। তাই এমন কিছু করা উচিত নয় যা আপনার ফুলের মতো ভালোবাসায় উটকো কীটের মতো বাসা বাঁধে। প্রেমের সম্পর্ক ভালো রাখতে যে ১০টি বিষয় নিয়ে এখনই সাবধান হতে হবে-

১. অসম্মানজনক ভাষা : সম্পর্ক গড়ে ওঠে পারস্পারিক সম্মান ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে। তাই এমন কোনো ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয় যাতে আপনার ভালোবাসার মানুষটি আহত হন। কেউ যদি এ রকম ভাষা ব্যবহার করেও থাকে, সেটা কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। বরং বিষয়টি তাকে বুঝিয়ে বলা জরুরি।

২. অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণে রাখা : এমন অনেকেই আছেন যারা তাদের প্রেমিক বা প্রেমিকাকে একা কোথাও যেতে দেন না। অনেকে আবার সব কাজে ব্যাখ্যা বা কৈফিয়ত দাবি করেন। অতিমাত্রায় নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ প্রেমিক বা প্রেমিকাকে আহত করে। এটা সম্পর্ককে ক্ষতিকর পরিণতির দিকেই নিয়ে যায়।

৩. বিশ্বাস ভঙ্গ : সম্মান ও শ্রদ্ধা ছাড়াও পারস্পরিক বিশ্বাসের মাধ্যমে ভালোবাসা গড়ে ওঠে। আপনি যদি আপনার প্রেমিক বা প্রেমিকাকে বিশ্বাস করতে না পারেন, তাহলে বিষয়টি নিয়ে আরো গভীরভাবে ভেবে দেখতে পারেন। গভীর সম্পর্কে যাওয়ার আগে সেটার ইতি টানাও সেক্ষেত্রে ভালো হতে পারে। সম্পর্ক হবে পরিপূর্ণভাবে খোলামেলা, বিশ্বাসযোগ্য ও সহযোগিতামূলক। পরস্পরের মধ্যে বিশ্বাসের অভাব থাকলে সুসম্পর্ক নষ্ট হবে। বিশ্বাসের অভাব থাকলে বিষয়টিকে অকারণে টেনে নেওয়া বা প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়।

৪. যত্নশীল না হওয়া : ভালোবাসার অর্থ একে অন্যের প্রতি যত্নশীল হওয়া। বিষয়টি বেশ সাধারণ। পেশাজীবনে আমরা বেশিরভাগ সময় অফিসে থাকি। কিন্তু দূরে থাকলেও প্রেমিক বা প্রেমিকার একটু খোঁজ-খবর নিলেই যত্নশীলতার বিষয়টি প্রকাশ পায়। কিন্তু আপনি যদি দীর্ঘসময় তার খোঁজ না রাখেন বা যত্নশীল না হন- তাহলে আপনার সম্পর্কে ভাটা পড়বে। এ বিষয়টি সম্পর্কের জন্য আখেরে ভালো হয় না।

৫. গুরুত্ব দেওয়া : সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে অন্যদের চেয়ে ভালোবাসার মানুষটিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া। তবে এ ক্ষেত্রে কেউ যদি নিজেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন, তাহলে সম্পর্ক যে বাজে দিকে গড়াবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ভালোবাসা গড়ে ওঠে সমানে সমানে। এটা মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

৬. নেতিবাচকতার ওপরে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্ব দেওয়া: নেতিবাচকতাও জীবনেরই অংশ। জীবনে বা সম্পর্কেও কখনো না কখনো তা আসতেই পারে। কিন্তু তা যেন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে ছাপিয়ে না ওঠে।

৭. আবেগ-অনুভূতির অভাব : প্রেমিক কিংবা প্রেমিকার প্রতি আবেগ-অনুভূতির ঘাটতি থাকা উচিত নয়। আবেগের অভাব থাকলে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা কষ্টকর হয়ে যাবে। আপনি যদি ভালোবাসার মানুষটির প্রতি সহানুভূতি বোধ না করেন, তাহলে মনে রাখবেন আপনার ভালোবাসায় ঘাটতি রয়েছে। বিষয়টি অনিবার্যভাবে সম্পর্কে ফাটল ধরাবে।

৮. সঙ্গীর কথা না শোনা : খোলা মনে ও সৎভাবে পরস্পরের অনুভূতি শেয়ার করা উচিত। কেউ যদি তার প্রেমিক বা প্রেমিকের কথা গুরুত্ব দিয়ে না শোনেন, তাহলে তাদের সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব দেখা দেবে। বিষয়টি সম্পর্কের জন্য ক্ষতিই ডেকে আনবে।

৯. সঙ্গী যদি আপনার স্বপ্নের সহযোগী না হন : প্রত্যেকটি মানুষেরই কোনো না কোনো স্বপ্ন থাকে। সেই স্বপ্নের প্রতি সমর্থন জানানো প্রেমিক বা প্রেমিকার কর্তব্য। স্বপ্নের সারথী হয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই। ভালোবাসার মানুষটি যদি আপনার স্বপ্নকে অবজ্ঞা করেন, তাহলে সে সম্পর্ক ভাঙতে বাধ্য।

১০. দায়িত্বহীনতা : জীবন-সংসার চালাতে হলে কাজ করতে হবে। কেউ যদি কাজ কিংবা ব্যবসায় বিমুখ হয়, তাহলে অবশ্যই বিষয়টি শুভ লক্ষণ নয়। তাকে স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া উচিত- কর্মবিমুখ মানুষের মধ্যে ভালোবাসা থাকলেও তা সফল হতে পারে না।

১১. পরিবর্তন মেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন: জীবনের প্রয়োজনে সময়ে সাথে সাথে মানুষ পরিবর্তিত হয়। আপনার সঙ্গীটিও হচ্ছে। এই পরিবর্তন মেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন। মনোবিজ্ঞানী ড. স্টিভেন কার্গ বলেন “নিজেদের পরিবর্তনের সাথে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া একটি সফল সম্পর্কের মূল চাবিকাঠি”। সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি মানুষ যখন একটি সম্পর্কে আবদ্ধ হয়, তখন মানিয়ে নিতে দুইজনের সমস্যা হয়। নিজেদের সময় দিন, নিজেদের পরিবর্তনটুকু মেনে নিন।

 ১২: ঝগড়া করুন- কথাটি শুনে ভ্রু কুঁচকে গেছে নিশ্চয়? ছোট ছোট ঝগড়া আপনাদেরকে আরোও কাছে নিয়ে আসবে। আপনারা যখন কোন একটি বিষয় নিয়ে ঝগড়া করবেন, তখন দুইজনের মতের পার্থক্যটুকু বুঝতে পারবেন। তবে লক্ষ্য রাখবেন ঝগড়া যেন আপনাদের সম্পর্কের অন্তরায় না হয়ে দাঁড়ায়।  

১৩. ক্ষমা করুন:মানুষ মাত্রই ভুল হয়। ভুল মনে না রেখে ক্ষমা করার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন আপনি নিজেও ভুলের উর্ধ্বে নন। তাহলে সঙ্গীকে ক্ষমা করতে দোষ কী? ক্ষমা একটি সম্পর্কে মজবুত করে তুলে।

 ১৪. দেয়া-নেয়া হিসাব না করা:যে কোন সম্পর্কে সমঝোতা করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আপনি কী পেলেন, কতটুকু পেলেনে এই হিসাব না কষে আপনি কতটুকু করলেন সেটি লক্ষ্য করুন। তবে হ্যাঁ, একটি সম্পর্ক তখনই সফল হয় যখন সম্পর্কে দুইজনের সমান অংশগ্রহণ থাকে।

 ১৫. হাতটি ধরুন:সঙ্গীটির হাতটি ধরুন। মনে হতে পারে হাত ধরার সাথে সম্পর্ক টিকে থাকার কী সম্পর্ক? এই একটুখানি হাত ধরা সম্পর্কটিকে করে তুলবে মধুর। স্যাইকোলজি সায়েন্সের মতে “ হাত ধরার মধ্যে একজন সঙ্গিনী নির্ভরতা খুঁজে পায়”।

১৬. প্রশংসা করুন:প্রশংসা কে না পছন্দ করে, বলুন? আপনার সঙ্গী বা সঙ্গিনীও এর ব্যতিক্রম নয়। ধন্যবাদ দিন, প্লিজ বলুন তা যত ছোট কাজই হোক না কেন। আপনার একটি ছোট ধন্যবাদ বা প্রশংসা বাক্য আপনাদের সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী করবে।

 ১৭. মনে রাখবেন আপনি তাকে ভালোবাসেন:সম্পর্কের দুঃসময়ে মনে রাখুন, এই মানুষটি আপনার ভালোবাসার মানুষ। আপনি তাকে ভালোবাসেন। ভালোবাসার কারণগুলো মনে করার চেষ্টা করুন, দেখবেন অনেক কঠিন বিষয় সহজ হয়ে গেছে।

১৮. দু’জনের মাঝে তৃতীয় ব্যক্তি যেন না আসে:বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই একটা সম্পর্ক কেবল মাত্র তৃতীয় কোন ব্যক্তির কারণেই ভেঙে যায় ৷ তাই, চেষ্টা করুন আপনাদের দু’জনের সমস্যা দু’জনের মধ্যেই রাখতে আর দু’জনে মিলেই তার সমাধান করতে ৷ এতে সম্পর্কের গোপনীয়তা বজায় থাকে ৷ সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তি আসা মানেই আপনাদের সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে সে জেনে যাবে এতে আপনাদের দু’জনের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে ৷

১৯. দু’জনের পরিবারই সমান গুরুত্বপূর্ণ:নিজের পরিবারকে গুরুত্ব সকলেই দেন ৷ কিন্তু, একই সঙ্গে সঙ্গীর পারিবারিক দিকটাকেও কিন্তু আপনাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে ৷ সঙ্গীর পরিবারের সঙ্গে সেভাবে যুক্ত না হলেও খেয়াল রাখুন যাতে আপনার জন্য আপনার সঙ্গীর পারিবারিক জীবনে কোন সমস্যা না হয় ৷

২০. সঙ্গীর মেয়ে বা ছেলে বন্ধু নিয়ে অযথা প্রশ্ন নয়:আপনার সঙ্গীর ছেলে বা মেয়ে বন্ধু থাকতেই পারে ৷ তাই বলে প্রেমিকের মেয়ে বন্ধু রয়েছে বলে অযথা সন্দেহ বা প্রতিক্রিয়া একেবারেই দেখাবেন না ৷ নিজের মনে বিশ্বাস রাখুন আপনার সঙ্গী কেবল আপনারই ৷ অন্য কেউ তার বন্ধু হওয়া মানেই তিনি আপনার থেকে দূরে সরে যাবেন তা একেবারেই নয় ৷

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।