যৌন সঙ্গমকালে শীঘ্র পতনের কারণগুলি কি জানেন? (Are you suffering from premature ejaculation?)

  • by

শীঘ্রপতন – কোনো হাতি ঘোড়া বিষয় নয়। আর কোনো লজ্জা পাওয়ার বিষয় তো একেবারেই নয়। খুব স্বাভাবিক। আমাদের যেমন অনেক শারীরিক সমস্যা হয়, যেমন- সাইনাস, সর্দি কাশি, জ্বর, বা কোনো জাতীয় এলার্জি, সেগুলি সঠিক ভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে, সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে, সময়ের সাথে সাথে একেবারে সেরে যায়। ঠিক তেমনি এই সমস্যাটি। যেটি নিরাময়ে প্রয়োজন শুধু মাত্র কিছু সচেতনতা, কিছু অভ্যাসের ত্যাগ আর সঠিক চিকিৎসা। ব্যাস একটু ধৈর্য্য ধরলেই, এই সমস্যা আর কোনোভাবেই আপনার জীবনে ফিরে আসতে পারবেনা।

আজ চলুন জানা যাক এই সমস্যাটির খুঁটিনাটি। কারণ একমাত্র খোলাখুলি ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলে, তবেই এর থেকে নিরাময় সম্ভব।

শীঘ্র পতনের কারণ-

চিকিৎসকদের মতে, এই সমস্যাটি এক দিনে তৈরী হয় না, আবার এটি কারো জন্মগত ত্রুটি কি না সেটিও বলা সম্ভব নয়, সঠিক পরীক্ষা না করিয়ে। দেখুন যদি কারো এটি প্রথম থেকেই সমস্যা হয়ে থাকে, তাহলে সেটির ক্ষত্রেও যেমন চিকিৎসা আছে, তেমনি যাদের একটা সময় পেরোনোর পর সেক্স বা ইন্টারকোর্স পদ্ধতি একটানা ধরে রাখার ক্ষমতা কমে এসেছে তাদেরও কিন্তু অত্যাধুনিক চিকিৎসা বিদ্যমান আমাদের দেশেই। তবে সবার আগে বলে রাখি, এই সমস্যা নিবারণে, কোনো জ্যোতিষী বা কোনো পাড়ার হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে যাবেন না। খোঁজ খবর নিয়ে সঠিক ডাক্তারের কাছে যান।

চিকিৎসকদের মতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কিছু অভ্যেস আপনার এই সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

অভ্যেস-

১। যদি আপনি দীর্ঘদিন ধরে টাইট মানে একেবারে স্কিন টাইট অন্তর্বাস পড়তে অভ্যস্ত, তাহলে এটি কিন্তু কারণ হতেই পারে। কারণ পুরুষাঙ্গ দীঘক্ষন ধরে, চেপে থাকলে, তার নার্ভ ও শিরার ওপর চাপ সৃষ্টি করে, যা মোটেই ভালো জিনিস নয়।

২। যদি আপনি হয়ে থাকে, স্মোকিংয়ের মতো বড় অভ্যেসের শিকার, তাহলে আজি ত্যাগ করুন এটি। নতুবা আপনার পার্টনারকে সেক্সওয়ালী হ্যাপি করার আশা কোনোদিনই সম্ভব নয়। কারণ স্মোকিং আপনার শরীরে বিভিন্ন অর্গান এর ক্ষতি করে, যার মিলিত ফল হলো শীঘ্র পতন।

৩। আপনি কি পর্নোগ্রাফি মানে পর্ন দেখতে ভালোবাসেন? আসক্ত হয়ে পড়েছেন? মানে দিনে একাধিক পর্ন না দেখলে চলে না, বা সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন পর্ন দেখেই থাকেন, সেটিও কিন্তু আপনার শীঘ্র পতনের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

৪। পর্ন দেখে হস্তমৈথুন করতেই বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করেন, রিয়েল সেক্সের থেকে? তো এটা কিন্তু একটা বড় সমস্যা। কারণ নিয়মিত হস্তমৈথুন আপনার সেক্স বা স্পেরম ধরে রাখার ক্ষমতা যেমন হ্রাস করে, তেমনি আপনার শরীরে সেক্স উদ্দীপক গুলিকেও নষ্ট করতে থাকে। যার ফলে এমটা অনেকের সাথেই হয়, পাশে পার্টনার শুয়ে থাকলেও শরীরে সেক্স উদ্দীপক কাজ করে না বরং পর্নোগ্রাফি দেখে হস্তমৈথুন অনুসরণ করতে হয়।

৫। ইন্টারকোর্স করার আগেই কি আপনি খুব বেশি ভয় পান যে আপনি আপনার সঙ্গীকে কতটা সন্তুষ্ট করতে পারবেন তা নিয়ে? এই চিন্তা কিন্তু আপনার সুস্থ যৌন জীবন নষ্ট করতে পারে। সেই ভাবতে ভাবতেই আপনার চিন্তার কারণেই সঙ্গমকালে শীঘ্র পতন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৬। আরেকটি বড় শত্রু হল সুস্থ যৌন সঙ্গমের স্ট্রেস-সেটি কাজের চাপ হোক, বা পারিবারিক চাপ। তাই বলছি, যদি স্ট্রেস এটির কারণ হয়ে ওঠে, সেটি বোঝার জন্য নিজের সঙ্গীকে নিয়ে কিছুদিন এক ঘুরে আসুন, যেখানে একান্তে কিছু সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন আপনারা। সেখানে যদি এই সমস্যা না দেখা দেয়, তাহলে বুঝতে হবে স্ট্রেসই আসল কারণ।

আর সবশেষে বলবো, সব সমস্যার চিকিৎসা আছে। তাই লজ্জা না পেয়ে নিজের পার্টনারের সাথে যেমন বিষয়টি নিয়ে খোলাখুলি কথা বলতে হবে, তেমনি দুজনে মাইল এর নিরাময়ের পথ খুঁজতে হবে। কারণ যে পুরুষরা শীঘ্র পতনের শিকার, তারা স্বাভাবিক ভাবেই কিছুটা হীনমন্যতায় ভোগেন, তাই তাদের চাই বেশি মেন্টাল সাপোর্ট। আর চিকিৎসা করতে একদম লজ্জা পাবেন না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।