সাশ্রয়ী মূল্যের অনলাইন কাউন্সেলিং: সম্পর্ক, ডিপ্রেশন এবং স্ট্রেসের জন্য(Affordable Online Counseling: For Relationships, Depression and Stress)

আশা-নিরাশায়ই তো জীবন। কী আছে, কী নেই, সেই দোলাচলে মন পড়ে যায় বিপাকে। নিরাশার পাল্লাটা ভারী হতে হতে অনেকেই হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তাতেই কি জীবনের গতি থামিয়ে দিতে হবে? সব সময় জীবনের পাওয়া না-পাওয়ার হিসাব না কষে আনন্দের মুহূর্তগুলো ভাবার চেষ্টা করুন। ব্যর্থতার সাগরে ডুবে না গিয়ে আশাবাদী হতে হবে। নিজে নিজে চেষ্টা করে বা অন্যের সাহায্য নিয়ে এই হতাশা থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করতে হবে। তা না হলে আপনি বিষণ্নতায় ভুগবেন, ডুবে যাবেন হতাশার সাগরে।

হতাশার কারণ?

অনেক সময় সম্পর্কের কারণে মানুষ হতাশ হয়ে যায়। মা-বাবার সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্ক, এমনকি সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো না হলে একটা পর্যায়ে গিয়ে হতাশায় ডুবে যান অনেকে। শৈশবে শারীরিকভাবে অপব্যবহৃত হলে অথবা মা-বাবার কাছে নিজেকে গুরুত্বহীন বলে মনে হলে পরবর্তী জীবনে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। অনেক সময় নিজের ছোট ভাইবোনকে মা-বাবা বেশি আদর করছেন, এমন ভাবনা থেকেও হতাশা তৈরি হয়। আবার বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ভীতি এবং মানসিক চাপের কারণে হতাশা আসতে পারে জীবনে। জীবনের কাঙ্ক্ষিত চাওয়া পূরণ না হলে কমবেশি হতাশ হয়ে যান

মন খারাপ না হতাশা?

আবার ধরুন, কাছের কেউ মারা গেলে মন খারাপ হবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে সে জন্য দুই মাসের বেশি সময় অতিরিক্ত মন খারাপ থাকলে সেটিকে আমরা হতাশা হিসেবে চিহ্নিত করতে পারি।জীবনের বিভিন্ন ধাপে আসতে পারে হতাশা। বয়ঃসন্ধিকালের পরিবর্তনগুলোর সঙ্গে মানিয়ে নিতে কারও কারও সমস্যা হতে পারে। বিভিন্ন সময় সামাজিক কারণে মেয়েদের যেসব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, সেগুলোও হতাশার কারণ। সংসার-সন্তানের দায়িত্ব নিতে গিয়ে পড়াশোনা বা কর্মক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার ফলেও হতাশ হন অনেকে। সন্তান জন্মের পরপরই কেউ কেউ হতাশাগ্রস্ত হতে পারেন। কর্মক্ষেত্রে ছাঁটাইয়ের চিন্তা বা পদোন্নতি না হওয়ার কারণেও হতে পারে। অনেকে আবার মাঝবয়সে বিদেশে গিয়ে এমন কাজ করতে বাধ্য হন, যা তাঁর কাছে সম্মানজনক বলে মনে হয় না। আর বৃদ্ধ বয়সে সন্তানদের সব দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার পর নিজেকে অপ্রোয়জনীয় মনে হতে পারে, সন্তানেরা দূরে থাকলে নিজেকে একা মনে হতে পারে। কর্মজীবীরা অবসরগ্রহণের পর ব্যক্তিসত্তাহীনতায় ভুগতে পারেন। এমন নানা কারণে হতাশ হতে পারেন।

আরও পড়ুন-ডিপ্রেশনে ভুগছেন? আপনার হতাশা মোকাবিলার জন্য রয়েছে নানান সহজ সমাধান (Suffering from depression? There are many simple solutions to deal with your depression)

আশায় বাঁচুন

জীবনের পরিবর্তনগুলোকে মেনে নিতে চেষ্টা করুন। শিশুদের হতাশা কাটাতে মা-বাবার বড় ভূমিকা রয়েছে। যেকোনো বিষয়ে তাদের অতিরিক্ত চাপ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। বয়ঃসন্ধিকালে সংকোচ না করে তাকে সঠিক তথ্যগুলো দিন। একটি সন্তান অন্যায় করলে তাকে অন্যদের সামনে জেরা করবেন না। পরীক্ষার আগে অল্প সময়ে সব পড়ালেখার চাপ না নিয়ে অল্প অল্প করে নিয়মিত পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

কর্মক্ষেত্রে সবার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখুন। নিজের দক্ষতা নিজের কাজ দিয়েই বুঝিয়ে দিন। যদি মনে হয়, কাজ করতে গিয়ে আপনি বেশি হতাশ হয়ে পড়ছেন, তাহলে ছুটি নিয়ে কোথাও থেকে ঘুরে আসতে পারেন। আর চাকরি ছাড়তে চাইলে তো তা যেকোনো মুহূর্তেই ছাড়া যাবে।
মা হওয়ার সময় অনেক নারী হতাশ হয়ে যান। এ সময় তাঁকে সব ধরনের সহযোগিতা ও সমর্থন দিতে হবে। পরিবারের অন্যদের পাশাপাশি তাঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসতে হবে তাঁর স্বামীকেও।

একটা বয়সে নারীদের পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যায়। তখন তাঁরা হতাশ হয়ে পড়েন। আগে থেকে মানসিক প্রস্তুতি থাকলে হতাশাগ্রস্ত হবেন না। মনের বয়স বাড়তে দেওয়া যাবে না। বৃদ্ধ মা-বাবাকে নিজের কাছাকাছি রাখুন। সব ভাইবোন মিলে তাঁদের হাতে প্রতি মাসে কিছু টাকা তুলে দিন ইচ্ছেমতো খরচ করার জন্য। ব্যস্ততার মাঝেও সময় দিন তাঁদের। জীবনের প্রতিটি সম্পর্কে পারস্পরিক বোঝাপড়াটা ঠিক রাখুন। আপনার কাছের মানুষটি হতাশাগ্রস্ত হলে তাকে সাহায্য করতে পারেন আপনিই।

কি কি করণীয়

কী কারণে আপনি হতাশ, তা খুঁজে বের করতে হবে। সমস্যাটি সমাধান করতে চেষ্টা করুন।
সামাজিক সম্পর্কগুলো জোরদার হলে হতাশা কাটিয়ে ওঠা সহজ হয়।
পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। বই পড়ুন।
আর কাছের মানুষ হতাশায় ভুগলে তার মন ভালো রাখতে চেষ্টা করুন। যেকোনো পরিস্থিতিতে তাকে সমর্থন করুন।
নিজের সুন্দর ও ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে ভাবলে দেখবেন হতাশ লাগবে না।

আরও পড়ুন-লকডাউন পরিস্থিতিতে মানসিক চাপ কাটানোর কিছু বিশেষ টিপস(Here are some tips to help you deal with stress in a lockdown situation)

Spark.Live এ সাশ্রয়ী মূল্যের অনলাইন কাউন্সেলিং

অনলাইন কাউন্সেলিং-এর প্রয়োজন কম বেশি সকলেরই হয়ে থাকে, কিন্তু আমরা অনেকসময় খরচের কথা ভেবে পিছিয়ে পড়ি। মনের যন্ত্রণাকে গুরুত্ব না দিয়ে কিছুতেই জীবনে সঠিকভাবে এগিয়ে যাওয়া সম্ভবপর হয়না, সেইকারণে আপনাদের জন্য রয়েছে Spark.Live এ সাশ্রয়ী মূল্যের অনলাইন কাউন্সেলিং, Spark.Live এ রয়েছেন বহু বিশিষ্ট সাইকোলজিস্টরা যারা আপনাদের মনের যেকোনো ধরণের জটিলার সমাধানে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন এবং আপনারা খুব সহজেই মনের আনন্দে বাকি জীবনটা পজিটিভিটির সঙ্গে কাটাতে পারবেন।

Spark.Live এর কনসালট্যান্ট সাইকোলজিস্ট, সাইকোলজি শিক্ষিকা এবং স্পেশাল এডুকেটর শ্রীতমা ঘোষ

“ডঃ শ্রীতমা ঘোষ একজন কনসালট্যান্ট সাইকোলজিস্ট, সাইকোলজি শিক্ষিকা এবং ১০ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন স্পেশাল এডুকেটর।

তিনি সাইকোলজিতে এমএসসি এবং পিএইচডি করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তিনি IGNOU (Indira Gandhi National Open University) থেকে স্পেশাল এডুকেশন (Autism Spectrum Disorder) নিয়ে ডিপ্লোমা অর্জন করেছেন। তিনি ইন্ডিয়ান সাইকোঅ্যানালিটিক অ্যাসোসিয়েশন দ্বারা সাইকিয়াট্রিক কাউন্সেলিংয়ে স্বীকৃত এবং RCI রেজিস্টার্ড একজন সাইকোলজিস্ট বা মনোবিজ্ঞানী।

তিনি বহু রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার্স, কলেজ এবং ক্লিনিকাল সেন্টারে কাজ করেছেন এবং সবরকম বয়সী মানুষকে সহায়তা করেছেন। চাইল্ড কাউন্সেলিং, ফ্যামিলি কাউন্সেলিং এবং স্বতন্ত্র থেরাপিতে বিশেষজ্ঞ, ডাঃ শ্রীতমা কলকাতার ইন্দাস ভ্যালি ওয়ার্ল্ড স্কুলে হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস কাউন্সেলর এবং সাইকোলজি শিক্ষিকা হিসাবে যুক্ত রয়েছেন। 

বর্তমানে Spark.Live এ কনসালট্যান্ট সাইকোলজিস্ট ডঃ শ্রীতমা ঘোষ যুক্ত রয়েছেন, আপনারা নিজেদের যাবতীয় মানসিক সমস্যার সুরাহা করে নিতে পারেন ওনার সঙ্গে অনলাইন কন্সালটেশনের মাধ্যমে। “

শ্রীতমা ঘোষের সঙ্গে অনলাইন কন্সালটেশনের জন্যে লিংকটিতে ক্লিক করুন- https://spark.live/consult/counseling-and-cbt-for-depression-anxiety-stress-loneliness-with-dr-sritama-ghosh-bangla

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।