ব্যাংকে সঞ্চিত নিজের জমাপূঁজি হ্যাকারদের থেকে বাঁচাতে মেনে চলুন এই পাঁচটি নিয়ম (5 ways to prevent your bank account from being hacked!)

  • by

আজকাল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা খুবই সহজ ব্যাপার। অনলাইন অ্যাকাউন্ট গুলিতেই কমবেশী হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি থাকে। এক্ষেত্রে আমাদের দেশে প্রতিদিন একশোটিরও বেশী অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার মতোন ঘটনা ঘটছে। আপনি জানতেও পারছেন না কখন আপনার সমস্ত ব্যাংক ডিটেইলস হ্যাকারদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। আর তা জানার পর,আপনার আর কিছু করার থাকছে না। চোখের নিমিষেই আপনার ব্যাঙ্কের সমস্ত টাকা উধাও হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে সমস্ত অ্যাকাউন্ট নম্বর গুলিই ফোন নম্বরের সাথে যুক্ত। এবং আমরা বেশীরভাগই অনলাইন ট্রানজাকশন করতে ভালোবাসি। সমীক্ষার ভিত্তিতে এই অনলাইন ট্রানজাকশন থেকেই সবচেয়ে বেশী, অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়। কিভাবে আপনি আপনার অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হওয়ার থেকে বাঁচাবেন! রইল পাঁচটি উপায়,

কি কি করবেন-

১) বছরে অন্তত দুই থেকে তিনবার আপনি আপনার ব্যাংকের এটিএমের পিন কোর্ডটি চেঞ্জ করুন। বছর তিনেক আগেই ব্যাংকের এর এই সুবিধাটি ছিল না। এখন আপনি যখন তখন এটিএম-এর পিন জেনারেশন করতে পারেন। এর ফলে আপনার অ্যাকাউন্টটি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকে।

২) এটিএম-এর টাকা তোলার সময়, ভালো করে দেখে নেবেন, মেশিনের আশেপাশে কোনো রকম গোপন ক্যামেরা রাখা আছে কিনা। তাতে আপনার পিন কোড দেওয়ার সময় সম্পূর্ণ কোডটিই ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ফলে হ্যাকাররা খুব সহজেই পিন কোডের মাধ্যমে টাকা তুলে নেন।

৩) যেসব অ্যাকাউন্ট বা ওয়েবসাই গুলিতে আপনার স্পর্শকাতর তথ্য রয়েছে, সেই অ্যাকাউন্ট গুলির দীর্ঘ ও জটিল পাসওর্য়াড ব্যবহার করুন। অক্ষর, চিহ্ন, সংখ্যা প্রভৃতি মিলিয়ে পাসওয়ার্ড জটিল করে তুলুন। প্রতিটি ওয়েবসাইটের জন্য আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। এক্ষেত্রে লাসপাস বা পাসওয়ার্ড সেফ অ্যাপ গুলির কার্যকারীতা অনেক।

৪) আমরা অনেকেই বাড়িতে বসে অনলাইন শপিং করি। এক্ষেত্রে বাড়িতে বসে খুব সহজেই পছন্দ করে আমরা সেই জিনিসটি কিনেনি। এবং জিনিসটির পরিবর্তে ওই অনলাইন শপিং সংস্থাটিকে ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ফোনের মাধ্যমে তরিঘড়ি করে আমরা অনলাইন পেমেন্ট করে থাকি। ফলে এইসমস্ত বেশীরভাগ সংস্থা গুলিই কাস্টোমারদের প্রাইভেসি ও নিরাপত্তার বিষয়ে তত গুরুত্ব দেন না। ফলে এর মাধ্যমেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিভিন্ন তথ্য হ্যাকারদের কাছে চলে যাচ্ছে।

৫) ক্রেডিট কার্ড হোক বা পার্সোনাল লোন। এখন সবার মোবাইলেই বিভিন্ন কোম্পানির কমবেশি ফোন আসে। অনেক ফোনে ব্যাংকের তথ্য চাওয়া হয়। এই ধরনের ফোন থেকে সব সময় সাবধান। প্রয়োজন হলে ব্যাংকে গিয়ে নিজে লোন অ্যাপ্লাই করুন। সরাসরি কথা বলুন ব্যাংকের সঙ্গে। কিন্তু এই ধরনের ফোনে ব্যাংকের তথ্য ভুলেও দেবেন না। যা টাকা আছে, সব টাকাই তুকে নিতে পারে হ্যাকাররা। শুধু কল নয়,অনেক সময় মেসেজের মাধ্যমেও ফাঁদ পাতা হয়। ব্যাঙ্কের বিষয়ে কোনো নম্বর থেকে মেসেজ এলে বুঝে যাবেন, আপনার অ্যাকাউন্টটি হ্যাকারদের নজরে। ফলে মেসেজটি ওাওয়ার সাথে সাথেই ব্যাংকক গিয়ে যোগাযোগ করুন।

খুব সতর্ক ভাবে নিজের ব্যাংক একাউন্টটি পরিচালনা করুন, কারণ তাতে জমানো থাকে আপনার ঘাম জল করা পরিশ্রমের পুঁজি। সেটিকে আপনার অবচেতনার শিকার হতে দেবেন না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।